বুধবার, 21 নভেম্বর 2018

রূপসায়, আঠারোবেকী ও ভৈরব নদীর খননকৃত মাটি ইট ভাটা মালিকদের দখলে

Written by  রবিবার, 16 সেপ্টেম্বর 2018 02:22
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

খান আঃ জব্বার শিবলী ঃ রূপসায়, আঠারোবেকী ও ভৈরব নদীর খননকৃত মাটি, চাষাবাদযোগ্য জমিতে ভাটা নির্মান, সরকারী খাস জমি দখল, কয়লার পরিবর্তে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোসহ নানাবিদ অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ইট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে। পরিবেশ রক্ষার তোয়াক্কা না করে বসত ভিটার সন্নিকটে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে অবৈধ ইটের ভাটা। নানাবিদ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকার জনসাধারন। পরিবেশ দূষনের কারনে জন জীবন বিপর্যয়।  রূপসা উপজেলার আঠারোবেকী ও ভৈরব নদীর বিভিন্ন এলাকায় জেগে ওঠা চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা অব্যহত রয়েছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল উক্ত জমিসহ আঠারোবেকী নদীর খননকৃত মাটি কেটে নিয়ে ভাটার ইট তৈরীর জন্য লুটে নিচ্ছে। এর আগে বিগত ২০১৬ সাল থেকে ওই জমির ডিসিআর গ্রহীতারা আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ও ফল পাইনি। এমনকি পড়তে হয়েছে প্রভাবশালীদের রোষানলে। গতকাল বুধবার স্বরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে রূপসার আঠারোবেকী ও ভৈরব নদী সংলগ্ন চরে নদী খননের স্তুপকৃত মাটি স্কেভেটর দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা ডিসিআর গ্রহীতা মাহবুবুর রহমান, মোঃ বাবুল হাওলাদার ও ফরিদ আহম্মেদসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে উক্ত জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে তারা ইট তৈরী করে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় এলাকাবাসীরা। তাদের মতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে আঠারোবেকী ও ভৈরব নদী খনন করছে। আর খননকৃত ওই মাটি নদীর তীর রক্ষার জন্য রাখা হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা অথবা জলোচ্ছাস থেকে নদীর তীরবর্তী গ্রামবাসীসহ এলাকার ফসলি জমি রক্ষা পায়। কিন্তু অবৈধ ভাবে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। তারা এই মাটি কাটা বন্ধের জন্য দ্রুত জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য ২০১৬ সালে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আঠারোবেকী নদীর চর ভরাটকৃত প্রায় অর্ধশত বিঘা জমি দখল করে ইট ভাটার কাজ শুরু করেছে। এসময় তারা সরকারী অনুমোদন প্রাপ্তির লক্ষ্যে অনেক মালিকানা জমিও দখল করে নেয়। এ নিয়ে জমির মালিকসহ খাস জমির ডিসিআর ভোগীদের মধ্যে ১২ জন বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক ও রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছিলেন। এমনকি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডীয় জমির মালিক জনৈক মোল্লা এনামুল কবির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাও করেছিলেন। সেই মামলায় আদালত সেখানে স্থিতিদেশ জারি করলেও তারা আবারও উক্ত জমি থেকে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ১৭ই জুলাই জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ আতাহারুল ইসলাম খুলনা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় নদীর সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে নদী পাড়ের খাস জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। যে নির্দেশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সে সময় খাস জমি দখল সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয়রা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আঠারোবেকী নদীর মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে আমার নজরে এসেছে। আমি রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

পড়া হয়েছে 55 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com