শুক্রবার, 14 ডিসেম্বর 2018

আড়ংঘাটায় অর্ধশত খুনের নেপথ্যেঃ পর্ব- ৩ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ৫সদস্য খুন

Written by  মঙ্গলবার, 04 ডিসেম্বর 2018 01:51
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

শওকত আলমঃ স্বাধীনতাত্তোর আড়ংঘাটা এলাকায় অর্ধশত খুনের মধ্যে একটি পরিবারের ৫সদস্য খুন হওয়ার ঘটনা আজও সাধারণ মানুষ ভুলতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে এই নিশংস্ব ঘটনার আলোচনা উঠে আসে শিউরে উঠে সমস্ত শরীর। ঘটনার বিবরণে প্রতক্ষ্য দর্শীদের মতে জানা যায় এই ৫সদস্য খুনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মোড়লের পুত্র বাবুল মোড়ল ছিল নিরীহ প্রকৃতির সহজ সরল মানুষ। গোপন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যে আগ্নীয়অস্ত্র সংগ্রহ করার জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠে। স্বাধীনতার পূর্বে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাবুলকে পাখি মারার কথা বলে হত্যাকারীরা বাড়ী থেকে বুন্দুক নিয়ে আসতে বলে। সহজ সরল এই যুবক অতি পরিচিত পতিবেশি ঐ চাচার কথা মতো বন্দুক নিয়ে পাখি মারার জন্য তার সাথে বাড়ির পাশে একটি বাগানে যায়। সেখানে তার হাত থেকে বন্দুক নিয়ে বাবুল কে গুলি করে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা বন্দুক নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর বাবুলের দাদা অত্যান্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সন্ত্রাসীরা ধারনা করে বন্দুক উদ্ধাদের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই কারনেই কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবুলের দাদা হাজী শরমোতুল্য মোড়লকে খুন করা হয়। পরবর্তী পর্যায় তার পুত্র রুহুল আমীন মোড়ল মুক্তিযুদ্ধের জন্য ভারতের প্রশিক্ষনের জন্য চলে যায়। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বীর প্রতিক নিয়ে বাড়ি ফেরে। পিতা এবং পুত্র হত্যার শোকে খুজতে থাকে হত্যা কারীদের। ভারতে থেকে দেহরক্ষী কালু নামক এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে আসে। বাড়িতে ফেরার পর কালু সর্বক্ষণ তার সাথে থাকত দেহরক্ষী হিসেবে। ইতি মধ্যে হত্যা কারীদের সন্ধ্যান পেয়ে যান। রিজাউল ইসলাম নামক সরদার ডাঙ্গা এলাকার এক যুবককে রাতে আড়ংঘাটা বাজার এলাকা থেকে এরারূট কেনার সময় ধরে নিয়ে যায় বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে। পরবর্তীতে তার লাশ পাওয়া যায় শলুয়া বাজারের পাশে একটি স্লুইচ গেটের মুখে। ঐ সময় রিজাউলের সাথে থাকা গোপন রাজনৈতিক দলের সদস্য আশরাফ হোসেনকে ও বেধে ফেলা হয়েছিল কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক সদস্য তার বাধন খুলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং সাথে সাথে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঐ ব্যক্তি গোপন রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়েও আত্মীয়তার কারনে রুহুল আমীনের দেহরক্ষীর কাজে কর্মরত ছিল। রিজাউল খুনের পরপরই গোপন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রথম দফায় রুহুল আমীনকে খুন করতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় দফায় তারা আর ব্যর্থ হয়নি। নির্মম ভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীনকে খুন করতে সক্ষম হয়। এর পর এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানের ক্ষোভে দুঃখে আওয়ামী লীগ থেকে অন্য দলে যোগ দেয়। এক সন্তান লাবলু মোড়ল কিছুদিন পরেই তার পরিচিত বন্ধুর হাতে ডুমুরিয়া থানা এলাকায় খুন হয়। হত্যা কান্ডের ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। পরবর্তীতে রুহুল আমীনের অন্য সন্তান ডাবলু মোড়ল আড়ংঘাটা এলাকায় দুই পক্ষের অভ্যতরীণ কোন্দলের কারণে যোগদেয় বি এন পি তে এবং দৌলতপুর থানা যুবদল নেতার দায়িত্ব পায়। দৌলতপুরে এক প্রভাবশালী টাইগার খোকন তখন আড়ংঘাটা ও দৌলতপুর নিয়ন্ত্রন করত। এই টাইগার খোকনের দলের পক্ষে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে ডাবলু মোড়ল। পরবর্তীতে আততায়ীর গুলিতে সে নিহত হয়। এভাবেই আড়ংঘাটায় এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ৫সদস্য নির্মম খুন হয়। এসব হত্যাকান্ডের বিষয়ে মামলা বা আদালত থেকে সাজা হয়েছে এমক কোন তথ্য আজও পাওয়া যায়নি। চলবে,

পড়া হয়েছে 7 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com