মঙ্গলবার, 20 নভেম্বর 2018

সীমান্ত হত্যা বন্ধেরঘোষণা বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

Written by  শনিবার, 08 সেপ্টেম্বর 2018 01:03
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

ঢাকা অফিস : সীমান্ত হত্যা শূন্যে কোটায় নামিয়ে আনতে প্রতিরোধমূলক যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ইচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিজ-নিজ দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসতর্কতাবশত সীমান্ত অতিক্রমকারী নাগরিকদের নিজ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন তারা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ে ৪৭তম সীমান্ত সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামমের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। অপরদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মার নেতৃত্বে ২০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেন। গতকাল শুক্রবার জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশন স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। আজ শনিবার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হতাহতের ঘটনা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বিএসএফকে ধন্যবাদ জানান বিজিবি মহাপরিচালক। তবে হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোটায় নেমে না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা বলেন, সীমান্তে হতাহতের ঘটনা এড়াতে বিএসএফ নন-লিথেল অস্ত্র ব্যবহার করছে। এমনকি সশস্ত্র অপরাধীদের বিপদজনক আক্রমণের শিকার হয়েও বিএসএফ সর্বোচ্চ সহি ুতা প্রদর্শন ও নূন্যতম শক্তি প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্ত অপরাধীদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করাসহ তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে হতাহতের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিজনিজ দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসতর্কতাবশত সীমান্ত অতিক্রমকারী নাগরিকদের নিজ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছেন। ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের অনুসন্ধানে বিজিবিসহ বাংলাদেশী অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতার প্রশংসা করে এ বিষয়ে আরো সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান বিএসএফ মহাপরিচালক। বাংলাদেশে এধরণের কোন গোষ্ঠির অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে বিজিবি মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ কখনোই অন্যকোন দেশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধী-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে তার ভূমি ব্যবহারের সুযোগ দেয় না। সম্মেলনে উভয় পক্ষ মানবপাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পাচারের শিকার হওয়া নাগরিকদের দ্রত উদ্ধার করে নিজনিজ দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। বিএসএফ মহাপরিচালক ভারতীয় জাল মুদ্রা পাচার রোধে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বিজিবিসহ বাংলাদেশের অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষই মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ পাচারসহ সবধরনের চোরাচালান বন্ধে একে অপরের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং চোরাচালান রোধের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। উভয় মহাপরিচালক যশোর সীমান্তে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ এর কার্যকারিতার প্রশংসা করেন এবং অন্যান্য সীমান্তে পর্যায়ক্রমে 'ক্রাইম ফ্রি জোন' ঘোষণা করতে নীতিগতভাবে সম্মতি প্রকাশ করেছেন। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত অংশগ্রহণমূলক আলোচনায় উভয়পক্ষের সুচিন্তিত মতামতের ফলে সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ হওয়ায় উভয়পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা দু'দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন ২০১৯ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।

পড়া হয়েছে 25 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com