বুধবার, 21 নভেম্বর 2018

দমকা বাতাস, বৃষ্টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন ফ্লোরেন্স

Written by  শনিবার, 15 সেপ্টেম্বর 2018 00:31
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

একুশ আর্ন্তজাতিক: হারিকেন ফ্লোরেন্সের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের অনেক এলাকায় দমকা বাতাস ও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। আবহাওয়া অধিদপ্তর হারিকেনটির মাত্রা ১ এ নামিয়ে আনলেও ‘জীবন-সংহারী’ এ ঝড় নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনা এবং ভার্জিনিয়াকে লন্ডভন্ড করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনটি রাজ্যের উপকূলরেখার ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। নর্থ ও সাউথ ক্যারোলাইনায় আছড়ে পড়ার পর ঝড়টি ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন পূর্ব উপকূলে দমকা বাতাসের ঝাপটা ক্রমাগতভাবে বেড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করায় এরইমধ্যে এক লাখেরও বেশি বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে যে ‘ভয়াবহ’ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে বলেও অনুমান জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের। বিভিন্ন ছবিতে আশ্রয় কেন্দ্রের বারান্দায় কম্বল, বাতাসে ফুলানো যায় এমন ম্যাট্রেস ও বিছানা নিয়ে মানুষজনকে ভিড় করতে দেখা গেছে। নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টায় এক ফুটের মতো বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলেও বিবিসি জানিয়েছে। সমুদ্রের পানির উচ্চতার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তীব্রতাও বাড়ছে।  বাতাসের বেগ আগের তুলনায় কিছুটা কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরেন্সের তীব্রতার মাত্রা ১ এ নামিয়ে আনলেও তুমুল বৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতার কারণে ফ্লোরেন্স এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেও হুঁশিয়ার করেছে তারা। ঝড়টির আওতায় থাকা এলাকাগুলোর নদী ও এর আশপাশ এবং নিচু এলাকার লোকজনের ঝুঁকিই এখন সবচেয়ে বেশি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রশাসক ব্রুক লং।  ঝড়ের কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত পূর্ব উপকূলে দমকা বাতাস ও বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে মার্কিন আবহাওয়া অধিদপ্তর। কিছুকিছু এলাকার নদীর পানির উচ্চতা ৪ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে; অনেক নদীর পানি ‘উল্টোদিকে’ প্রবাহিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে উপকূলবর্তী বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় এরইমধ্যে প্রায় দেড় হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্লাইট এওয়ার ডটকম। হারিকেন ফ্লোরেন্স মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকা থেকে জরুরি বিভাগের কর্মীদের পূর্ব উপকূলের রাজ্যগুলোতে নিয়ে আসা হয়েছে। জলাবদ্ধ নাগরিকদের উদ্ধারে প্রস্তুত রয়েছে কোস্ট গার্ডের শ্যালো-ওয়াটার রেসপন্স বোট। ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা নিয়ে আগেই সতর্ক করা নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর রয় কুপার বৃহস্পতিবার বলেছেন, “ঝড়ের হুমকি এখন বাস্তব।”  সাউথ ক্যারোলাইনার মার্টল বিচ এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৭টা থেকে সান্ধ্য আইন জারি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পেট্রল স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে জ¦ালানির স্বল্পতা। ঝড়ের ফলে ১০ থেকে ৩০ লাখ বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ কাঁটা পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংযোগ পুনঃস্থাপনে কোথাও কোথাও সপ্তাহখানেকও লেগে যেতে পারে, বলছেন কর্মকর্তারা।

পড়া হয়েছে 12 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com