শুক্রবার, 14 ডিসেম্বর 2018

ইসি তুমি কার? শেখ হাসিনার: রিজভী

Written by  মঙ্গলবার, 04 ডিসেম্বর 2018 01:44
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

ঢাকা অফিস : সরকারের নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কে? ওই যে একটা ছবি হয়েছিল না- সখী তুমি কার? নির্বাচন কমিশন তুমি কার? শেখ হাসিনার। এ ব্যাপারে আর কোনো দ্বিধা নেই। গতকাল সোমবার বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন এবং একটা ছায়া হচ্ছে, একটা প্রলম্বিত ছায়া হচ্ছে, এই নির্বাচন কমিশন এবং তার কর্মকান্ড। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সবই বাদ পড়ে গেলেন। আর ওঁদের দ-প্রাপ্ত নেতারা সবাই টিকে গেলেন? তো এখানেই বুঝতে পারেন যে, কার পরামর্শে নির্বাচন কমিশন চলছে। একটা ছবি হয়েছিল। ‘সখি তুমি কার?’ নির্বাচন কমিশন তুমি কার? রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে বগুড়ার ডিসি কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে খালেদা জিয়া আরো একটি আক্রোশের শিকার হলেন। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ছোট রুমটিই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই ছোট রুমে ছুটে যান। মূলত, সরকারের নির্দেশ শোনার জন্যই রিটার্নিং অফিসারকে বারবার ওই রুমে যেতে হয়। বিএনপির প্রার্থীদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র নির্ভুল থাকার পরও ওই ছোট রুম থেকে ফিরে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, উপরের নির্দেশ আছে বলেই এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে আমি বাধ্য হচ্ছি। এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর একজনেরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। কারণ তাদের সাধু-সন্ন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মনোনয়নপত্রে সাক্ষর না করা সত্ত্বেও, তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসই দেওয়া হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তাঁর সাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সমমানের। এ ধরনের কর্মকর্তাকে দিয়ে সত্যায়িত হয়নি, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র। তাঁর মনোনয়নপত্র নোটারি করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনি কোনো ব্যাংক অ্রাকাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনি খরচ চালানো হবে। তা হলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কীভাবে? লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক দন্ডিত নেতার মনোনয়নপত্রও বৈধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে এ সময় তিনি বলেন, সরকারের ইচ্ছার প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভালোবাসা, প্রশ্রয়, সমর্থন প্রতিদিনই গভীর হচ্ছে। দেশের ৩০০ আসনে জমা পড়া ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি গত রোববার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ কয়েক ডজন নামিদামি প্রার্থী রয়েছেন। ১৭ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করা হয় দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হওয়ার কারণে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ, তথ্যে অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন কারণে বাকিদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় ছয়টি আসনে এখন বিএনপি বা জোটের কোনো প্রার্থী নেই। আওয়ামী লীগের যাঁরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদেরও অনেকে ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছেন মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে। তবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে যাঁরা প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের কারও বাদ পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। রিজভী বলেন, যা কিছু হচ্ছে তা হচ্ছে পুতুল নাচ। যে নাচটি নাচছে এখন নির্বাচন কমিশন। সুতাটা ধরে আছে গণভবন না হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওখান থেকে সুতাটা যেভাবে টান দিচ্ছে, নির্বাচন কমিশন পুতুল নাচের মতো সেভাবে নাচছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ‘নেতিবাচক চরিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে রিজভী বলেন, নির্বাচন নিয়ে ‘যত রকমের কারিগরি করা দরকার’ তার সবই তিনি করছেন। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে এও জানতে পেরেছি, ভোটের দিন থ্রি-জি, ফোর-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ (গতকাল সোমবার) থেকে মনিটরিং করা হবে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সরকারের সমালোচনা করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়ার হুমিক দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের সচিব। যেসব আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকল না, সেখানে কী হবে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ছয়টা আসনে তো বিএনপির কোনো প্রার্থীই নাই। এটা যে নির্বাচন কমিশন সরকারের কথায় যে কারিগরি করছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং করছেন, নির্বাচনের যে প্রক্রিয়া, সেটাতে তারা (সরকার) যে ক্রীড়াশীল- এটাতে তা স্পষ্ট। সেখানে কী করব সেটা আপিল প্রক্রিয়া শেষ হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে গত রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার হওয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। অন্যদের মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মাশুকুর রহমান, শাহজাহান স¤্রাট সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

পড়া হয়েছে 0 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com