শুক্রবার, 14 ডিসেম্বর 2018

কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস পালন

Written by  মঙ্গলবার, 04 ডিসেম্বর 2018 01:44
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়ায় হেমায়েত বাহিনী  স্মৃতি যাদুঘরে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা। মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হেমায়েত উদ্দিন (বীর বিক্রম)সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং হেমায়েত বাহিনীর তৎপরতা এলাকার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১১ টায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হেমায়েত বাহিনীর গ্রুপ কমান্ডার  আলহাজ্ব মো: শেখ লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহাফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এসএম হুমায়ুন কবীর। বক্তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে জাতিকে সরে না আসার আহ্বান জানান। পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিন সকাল ১০টার দিকে কোটালীপাড়ার কাকডাঙ্গা রাজাকার ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা হামলা চালিয়ে ক্যাম্পটি দখল করে নেয়। তার আগে থানায় আক্রমন চালিয়ে অস্ত্রশ্স্ত্র দখল করে নেয় হেমায়েত বাহিনী। রাজাকার ক্যাম্পের সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করে। জানাগেছে, যুদ্ধকালীন সময়ে এ অঞ্চলে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা ছিল খুবই শক্ত অবস্থানে।  সে কারণে কোটালীপাড়ার বীর সন্তান  পাকিস্থান সেনাবাহিনীর সৈনিক হেমায়েত উদ্দিন যুদ্ধ শুরু হলে দেশে পালিয়ে আসেন। গড়ে তোলেন নিজের নামে মুক্তি বাহিনী। সাড়ে ৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন হেমায়েত বাহিনী। কোটালীপাড়ায় তিনি একটি ট্রেনিং ক্যাম্প  তৈরী করেন। যেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরকেও যুদ্ধের প্রশিক্ষন  দেয়া হতো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় হেমায়েত বাহিনী। উলেখযোগ্য যুদ্ধ হয় বাঁশবাড়িয়া, ঝনঝনিয়া, রামশীল, জহরের কান্দি, হরিনাহাটি, মাটিভাঙ্গা, ঘাঘর প্রভৃতি এলাকায় । এ ছাড়া ছোট ছোট যুদ্ধও হয়েছে বেশ কয়েকটি। আর এসব যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রম। শুধু যৌথবাহিনীই দেশ মাতৃকার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেনি। পাক হানাদার বাহিনীকে এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে তৎকালীন সময়ে ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল  নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘হেমায়েত বাহিনী’। গ্রুপের সমন্বয়ে গঠিত এই হেমায়েত বাহিনী যুদ্ধ করেছিল রনাঙ্গনে। এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা পরবর্তীতে প্রায় ৭ হাজার হয়েছিল। তাদের  মধ্য থেকে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধ  চলাকালীন সময়ে হেমায়েত বাহিনীর সদস্যরা ১৩৪টি অপারেশন পরিচালনা করে। এর মধ্যে রামশীলের যুদ্ধ অন্যতম। যুদ্ধটি এই অঞ্চলে ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধ বলে পরিচিত। হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিন ঐতিহাসিক রামশীলের যুদ্ধে গুরুতর আহত হন। মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের কারণে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হেমায়েত উদ্দিনকে “বীর বিক্রম” খেতাবে ভূষিত করা হয়।

০৪-১২-২০১৮

04-12-2018

 

পড়া হয়েছে 0 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com