সোমবার, 25 মার্চ 2019

রূপসায় খাস ও রেলের শত শত বিঘা জমি প্রভাবশালীদের দখলে

Written by  সোমবার, 07 জানুয়ারী 2019 01:57
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

খান আ: জব্বার শিবলী : কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফিলতির কারনে গত ১৭ বছর ধরে রূপসা-বাগেরহাট রেলওয়ের ৪০ কি:মি: সড়কের বিপুল সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। কেউ কেউ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সামান্য জমি বন্দোবস্তো নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিঘা কি বিঘা বিক্রয় করে চলেছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। ১৯৯০ সালের রেলওয়ে আইন অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৩ ক্যাটাগরিতে চুক্তি করে থাকে। প্রথমত বানিজ্যিক, যার স্কয়ার ফিট ১২ টাকা। দ্বিতীয়ত কৃষি, তৃতীয়ত মৎস্য। প্রতি চুক্তির মেয়াদ ১১ মাস। কিন্তু কেউ কেউ ১১ মাসের চুক্তি নিয়ে রেলের জায়গার উপর ছাদ সহ ১/২ তলা বিশিষ্ট স্থায়ী বাড়ী তৈরী করে। তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন কোন অসাধু কর্মকর্তা একই জমি একাধিক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘ সময়ের ভিত্তিতে বন্দোবস্তো দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, গত ১৯৯৮ সালে সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারনে রূপসা -বাগেরহাট রেলওয়ে সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ তাদের রেলপাটি সহ যাবতীয় মালামাল টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় করে। যার কারনে পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে রেলওয়ের শত শত একর জমি। অভিযোগ মতে যে যার ইচ্ছা মতো জমি দখল করে সেখানে নানাবিধ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে । এর মধ্যে রয়েছে স‘মিল, রাইস মিল, হাট বাজার, বসত বাড়ী, দোকান পাট, পান বরজ, ইট বালুর আড়ৎ সহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ  উক্ত সম্পত্তি তাদের বসত ভিটার সাথে সংশ্লিষ্ট মনে করে ঘিরে রেখে ভোগ দখল করছে । প্রকৃত ভাবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বন্দোবস্তো প্রক্রিয়ার সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার সূযোগে জবরদখল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে। জানাগেছে, খুলনাঞ্চলের রেলের জমি বন্দোবস্তো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় খুলনা রেলওয়ের কাচারি অফিস থেকে এবং অফিসের কর্তাব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করে ও বিভিন্ন ভাবে ম্যানেজ করে বৈধ ভাবে জমির লীজ গ্রহন করতে হয় বিধায় লীজ গ্রহনেচ্ছু জনসাধারন  প্রকৃতভাবে লীজ গ্রহন করতে হয়রানির শিকার হয় বলে অভিযোগ। অনেকেই এ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে পরিত্যাক্ত জমি চাষাবাদের জন্য ব্যবহার করছে এবং বসতবাড়ী , ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। ফলে জমির ক্ষতি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে , অল্পজমি লীজ গ্রহন করে দ্বিগুন বা তার চেয়ে বেশি জমি ঘিরে ভোগ দখল করছে নিজের মতো করে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের কোন  নজরদারি না থাকার সুযোগে এ প্রক্রিয়া অব্যহত থাকায় রূপসা -বাগেরহাট রেলের কোন সম্পত্তি এখন আর রেল কর্তৃপক্ষের আওতায় আছে বলে বাস্তবে তার কোন চিহ্ন দেখা যায়না। বিশেষ করে জমির রাজস্ব প্রদান করতে হলে লীজ গ্রহীতাকে পাকশী গিয়ে এটা পরিশোধ করতে হয় বিধায় সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লীজ গ্রহন ও রাজস্ব প্রদান প্রক্রিয়া জনস্বার্থে সহজতর করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জবরদখল প্রক্রিয়া অনেকখানি হ্রাস পেতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করে। রেলের শত শত বিঘা জমি পূর্ব মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া সরকারী ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা আজও বাস্তবে রূপ নেয়নি। অবিলম্বে রেলের জমি জবরদখল প্রক্রিয়া রোধকল্পে ব্যাপক মনিটরিং প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মহা ব্যবস্থাপক (পশ্চিম রেলওয়ে) রাজশাহীর মুঠোফোন ০১৭১১-৫০৫৩০৯ এ যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি রিসিভ করেননি। অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপকের মুঠোফোন ০১৭১১-৫০৬১০৬ এ যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিএফও (পাকশী) এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন। পরবর্তীতে রেলওয়ে প্রধান ভূ-সম্পত্তি (পশ্চিম) এর মুঠোফোন ০১৭১১-৫০৬১২৮ নং এ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে সবকিছুর ব্যাপারে আমার কাছে ব্যাপক কোন তথ্য নাই। আপনি কানুনগো এর সাথে যোগাযোগ করুন। পরবর্তীতে ডিএফও (পাকশী) এর মুঠোফোন ০১৭১১-৫০৬১৩০ এ যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। এভাবে অবহেলিত আছে সরকারের হাজার কোটি টাকার রেলওয়ের সম্পত্তি।

??-??-????

07-01-2019

 

পড়া হয়েছে 15 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com