সোমবার, 25 মার্চ 2019

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে জয়ী আতিকুল

Written by  শনিবার, 02 মার্চ 2019 01:36
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

ঢাকা অফিস : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম। ১ হাজার ২৯৫টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই জয়ী হয়েছেন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদের চেয়ে ৭ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম। ঢাকা উত্তরে মোট কেন্দ্র ১ হাজার ২৯৫টি। এসব কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন মোট ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিবি) শাহিন খান পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৬০ ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ান পেয়েছেন ৮ হাজার ৬৯৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪০ ভোট। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে মেয়র পদে তিন প্রার্থীর পাওয়া একক ভোটের চেয়ে বাতিল করা ভোটের সংখ্যা বেশি। মোট বাতিল করা ভোটের সংখ্যা ১৯ হাজার ১১৩টি। অর্থাৎ, নির্বাচিত প্রার্থী আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর পরেই রয়েছে বাতিল ভোটের হিসাব। এই উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন মেয়র পদে লড়াই করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন আট লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট। আতিকুল নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে সাত লাখ ৮৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এর পরেই বেশি ভোট জমা হয়েছে বাতিল করা ভোটের ঘরে। মোট ভোট বাতিল হয়েছে ১৯ হাজার ৫১২টি। সেই হিসেবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাতিল করা ভোটের সংখ্যা। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪০ ভোট। আবদুর রহিমের চেয়ে সাত হাজার ২৫৫ ভোট কম পেয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ান। তিনি পেয়েছেন আট হাজার ৬৯৫ ভোট। সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিবি) শাহিন খান। তিনি পেয়েছেন আট হাজার ৫৬০ ভোট। গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম। এত সংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে কেন-জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ফল ঘোষণা শেষে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে ১৮টি সম্প্রসারিত ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। ওই এলাকাগুলো ঢাকা উত্তর সিটির ভেতরে হলেও ভোট দিতে তারা ততটা পারদর্শী না। ওই ১৮টি কেন্দ্রে বাতিল ভোটের সংখ্যা বেশি। অন্য এলাকায় যে ভোট বাতিল হয়নি, তা কিন্তু নয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা আরো বলেন, কোনো কোনো ভোটার একাধিক প্রতীকে সিল মেয়েছেন। কেউ দুই প্রতীকের মাঝখানে সিল মেরেছেন। কিছু লোক সিলই মারেননি। সে ভোটগুলোই বাতিল হয়েছে। এখানে ভোটারদের অজ্ঞতাই বেশি দায়ী। অন্য নির্বাচনগুলোতেও বিভিন্ন কারণে ভোট বাতিল হতে দেখা যায়। আনিসুল হকের মৃত্যুতে এই উপনির্বাচন হল। এতে বিজয়ী আতিক মেয়রের পদে থাকবেন এক বছর। এরপর আবার ভোট হবে। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম নির্বাচনে চমক দেখিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন আনিসুল হক। তাকে ভোটের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। চার বছর আগের ওই নির্বাচনে আনিসুল ৪ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭ ভোটের ব্যবধানে। ভোটের ক্ষেত্রে আনিসুলকে ছাড়িয়ে গেছেন আতিক; তবে এই নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির কেউ ছিলেন না। সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পর ভোট বর্জন করে বিএনপিসহ অধিকাংশ দল। ফলে রাজধানীতে নিরুত্তাপ এই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ। আনিসুলকে অনুসরণ করে রাজনীতিতে আসা আতিক তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও পূর্বসূরি আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন। আনিসুল হকের ‘স্মার্ট ঢাকা’ গড়ার প্রতিশ্রুতির মতো আতিকও তার নির্বাচনী ইশতেহার সাজান ‘সুস্থ, সচল ও আধুনিক’ ঢাকা গড়ার অঙ্গীকারে। আনিসুল হকের শুরু করা প্রকল্পগুলো শেষ করায় গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকা উত্তরে মশক নিধন, বিশুদ্ধ বাতাস ফিরিয়ে আনা, খেলাধূলা ও অন্যান্য গঠনমূলক কর্মকা-ের জন্য উন্মুক্ত পার্ক ও মাঠ তৈরি করা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বহুতল ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার। এক বছর মেয়াদে তা সম্ভবপর কি না- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে রাজনীতিতে থেকে যাওয়ার ইঙ্গিতই ছিল ৫৮ বছর বয়সী আতিকের। মেয়াদকাল চিন্তা করে ইশতেহার করা হয়নি। এটা সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকে করা হয়েছে। শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্য ঢাকার কাটালেও আতিকের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। পুলিশ কর্মকর্তা বাবার কর্মস্থল নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৯৬১ সালের ১ জুলাই তার জন্ম। মা মাজেদা খাতুন ও বাবা পুলিশ কর্মকর্তা প্রয়াত মমতাজউদ্দিন আহমেদের ১১ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট আতিক। ঢাকার বিএএফ শাহীন স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন তিনি। ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলী বড় ভাই শফিকুল ইসলামের হাত ধরে ১৯৮৫ সালে ব্যবসা অঙ্গনে ঢোকেন আতিক, তার মধ্যেই স্নাতক ডিগ্রি নেন তিনি। তৈরি পোশাকের ১৬ ধরনের ব্যবসা নিয়ে তার ইসলাম গার্মেন্টেসের বর্তমান কর্মী সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। আতিকের মেজভাই মো. তাফাজ্জল ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি। আরেক ভাই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইনুল ইসলাম বিডিআর বিদ্রোহের পর পুনর্গঠিত বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। আতিকুলের স্ত্রী ডেন্টাল সার্জন শায়লা সাগুফতা ইসলাম, তাদের একমাত্র সন্তান বুশরা আফরিন। ২০১৩-১৪ মেয়াদে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন আতিক; বিজিএমইএ’র উদ্যোগে ২০১৪ সাল থেকে তিনি শুরু করেন ‘ঢাকা এ্যাপারেল সামিট’ আয়োজন। বর্তমানে পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি ও পণ্যের মান উন্নয়নে গঠিত ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি-সিবাইয়ের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। ২০১৫ সালে আতিক বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেন। তার সময়ে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্টে’ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ দল। উত্তরার বাসিন্দাদের শরীরচর্চা, খেলাধুলা এবং আড্ডার কেন্দ্র হিসেবে আতিকের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ‘বাংলাদেশ ক্লাব’। তার উদ্যোগে ওই এলাকায় গঠিত হয়েছে ‘হাটি হাটি খাই খাই’ নামের একটি সংগঠন, যেটি শরীরচর্চার পাশাপাশি নানা ধরনের সামাজিক কর্মকা-ও যুক্ত।

পড়া হয়েছে 24 বার
এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর: « কাল দেশে ফিরছেন এরশাদ ছুটির নোটিশ »

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com