রবিবার, 21 এপ্রিল 2019

গোপালগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

Written by  মঙ্গলবার, 19 মার্চ 2019 01:43
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

মাহমুদ কবির আলী ঃ গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় প্রার্থীরা দারুন ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে। দম ফেলার সময় নাই। চলছে মাইকিং। চলছে বাড়ী বাড়ী গিয়ে প্রচারপত্র বিলি এবং দোয়া কামনা। প্রার্থীরা নিজে এবং সমর্থকরা এধরনের প্রচারনা চালাচ্ছেন। প্রতিদিন চলছে সভা,সমাবেশ,মিছিল এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে নানামুখী তৎপরতা। উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলার ৫ উপজেলায় সরকারি দল কোন মনোনয়ন না দেয়ায় নির্বাচন গনমুখী হয়ে উঠেছে। প্রার্থীরা ভোট আদায়ে মাঠে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৮০ হাজার ৯ শত ৪৫ জন। যেহেতু বিএনপি বা অন্য দলগুলি উল্লেখযোগ্য কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় নাই সেজন্য ভোটাররা দলীয়ভাবে কোন প্রার্থীকে পছন্দ  করার সুযোগ পাচ্ছেন না। জেলার মধ্যে সদর উপজেলায় জাতীয় পার্টি একজন প্রার্থীকে এবং মুকসুদপুরে জাকের পার্টি একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে তারা তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন না। প্রচারনায়ও নেই বললেই চলে। কারো মুখে খুব একটা তাদের কথা শোনা যায় না। নিজেরাও প্রকাশ্যে তেমন একটা আসছেন না। দলীয়ভাবে কোন প্রচারনা চোখে পড়ে নাই। এদিকে সদর উপজেলা,কোটালীপাড়া,মুকসুদপুর,কাশিয়ানী ও টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা ব্যাক্তিরা প্রার্থী হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরা সেকারনে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীদেরকে সমর্থন করে জয়লাভের প্রত্যাশায় প্রচারনায় ঝাপিয়ে পড়েছেন। পর্দার অন্তরালে থেকে প্রার্থীরা কেন্দ্রিয় পর্যায়ের নেতাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তবে এ যবাৎ কেন্দ্রিয় নেতাদের কোন প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য সমর্থন পেয়েছেন বলে শোনা যায় নাই। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্বাচন ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদর উপজেলায় মোট ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৭ শত ৩ জন। এখানে  চেয়রাম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু,জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো: মাহামুদ হোসেন মোল্ল্যা দিপু ও আওয়ামী লীগ নেতা এসএম শাহ আলমের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দীতা হবে বলে শোনা যায়। ভাইস চেয়ারম্যান  ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পছন্দের প্রার্থীর স্বপক্ষে জোরাল প্রচারনা চালাচ্ছেন কর্মী ও সমর্থকরা। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ভোটার সংখ্যা ৭৫ হাজার ৪ জন। এই উপজেলায় মাত্র দুই জন প্রার্থী রয়েছেন। দুই জনই আওয়ামী লীগ করেন। সেখানে প্রচারনার তাপমাত্রা প্রবল। দুজনই প্রতিদিন খাওয়া-ঘুম বাদ দিয়ে মাঠে থাকছেন। মুকসুদপুর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার ৭ শত ৩১ জন। চেয়ারম্যান পদে এমএম মহিউদ্দিন আহমেদ মুক্ত মুন্সি এবং কাবির মিয়ার মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতা জমে উঠেছে। ইতিমধ্যেই সেখানে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উভয় প্রার্থীর হার না মানা মানসিকতার দরুন। কোটালীপাড়ায় ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দিতা জমে উঠেছে। এ উপজেলায় ভোটার সংখ্যা  ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৬ জন। বর্তমান চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার,সাবেক চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস ও কমল সেনের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতা হবে বলে জানা গেছে।  কাশিয়ানীতে ৬ জন চেয়রাম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।  তিনজন প্রার্থীর মধ্যে প্রবল প্রতিদ্বন্দিতা হচ্ছে।  বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম বিরু,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোক্তার হোসেন এবং সুব্রত ঠাকুর হিল্টুর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দিতা চলছে। কাশিয়ানী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার ৪ শত ৭১ জন।  নির্বাচনে অপর তিন প্রার্থী মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ওরফে জাপানী ফারুক ,কাজী নুরুল আমীন তুহিন ও সামচুন্নাহার মিনা জামান  ভালো করবেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই । কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদ দুটি পৃথক সংসদীয় আসনের অংশ নিয়ে গঠিত বলে একটু ভিন্নতা রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। একটি অংশ গোপালগঞ্জ-২ আসনভুক্ত । অন্যটি গোপালগঞ্জ-১ আসনভুক্ত।  সংগত কারনে প্রার্থীদের ওপর রয়েছে কিছুটা চাপ। দুই দিকের প্রভাবযুক্ত পরিবেশে প্রচারনা চালাতে হচ্ছে প্রার্থীদের।  সদর উপজেলার মত কোটালীপাড়া,কাশিয়ানী,মুকসুদপুর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিরতীহিন প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন । শেষ হাসিটা কে হাসবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৪ মার্চ পর্যন্ত। এদিকে গোপালগঞ্জে ৪ দিনের ইভিএম প্রশিক্ষন শুরু হয়েছে সোমবার। জেলা শহরের স্বর্ণকলি স্কুল ও শেখ হাসিনা স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সদর উপজেলার ১১৪ টি কেন্দ্রে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট গ্রহন করা হবে। সোমবার শুরু হওয়া প্রশিক্ষনে ১২০ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ৭৪৫  জন সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার অংশ নিচ্ছেন। প্রত্যেককে ২ দিন করে প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। পোলিং অফিসার হিসাবে প্রশিক্ষন নিচ্ছেন মোট ১৪৯০ জন। প্রত্যেককে ১ দিন করে প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষন দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন মোট ৬৬ জন অতি: আঞ্চলিক পরিচালক ,উপপরিচালক,জেলা নির্বাচন অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে মনোনীত করেছেন।

??-??-????

19-03-2019

 

পড়া হয়েছে 1 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com