রবিবার, 21 এপ্রিল 2019

বৈশাখের রঙে রঙিন খুলনা নগরী

Written by  শনিবার, 13 এপ্রিল 2019 01:01
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

স্টাফ রিপোর্টার : দরজায় কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ। বৈশাখের রঙে রঙিন হয়ে ওঠতে বর্ণাঢ্য আয়োজন খুলনা জুড়ে। বৈশাখ উপলক্ষে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে খুলনার বিপণি বিতান ও মার্কেটগুলো। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে নানা বৈচিত্র্যময় পোশাকের পসরা বসেছে দোকানগুলোতে। কেনাকাটাও চলছে পুরোদমে। পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শাড়ি আর পাঞ্জাবিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি পোশাক দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টার কমতি নেই ফ্যাশন হাউসগুলোতেও। বর্ষ বরণের পোশাক কিনতে আসা অধিকাংশ নারীই জানালেন পহেলা বৈশাখে শাড়িকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। তবে কিশোরীদের পছন্দের তালিকায় আছে নানা ডিজাইনের টপস। অন্যদিকে পাঞ্জাবি বা ফতুয়া ছাড়া পহেলা বৈশাখটা যেন জমে না ছেলেদের। তাই ঘুরে ফিরে হাত চলে যায় লাল-সাদা পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার দিকে। বৈশাখকে সামনে রেখে খুলনা মহানগরীর ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে শৈল্পিক ডিজাইনের সব পোশাক। হাউসগুলোতে মেয়েদের জন্য রয়েছে থ্রি পিস, শার্ট টপস, লং টপস, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, ওড়না, প্লাজ্জু ইত্যাদি। পাশাপাশি রয়েছে ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, ধুতি পাজামা ও বাচ্চাদের নানা শৈল্পিক পোশাক। এসব পোশাকের বেশিরভাগেই প্রাধান্য পেয়েছে লাল, সাদা, হলুদ ছাপ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব হওয়ার কারণে এর আমেজ প্রতিবছরই বাড়ছে। ঈদ বা পুঁজা উৎসবকে বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন চোখে দেখা হলেও এ উৎসব সবার জন্য। তাই এ উৎসবে মুসলিম–হিন্দু সবাই সমানভাবে কেনাকাটায় উৎসাহী হয়।  খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের ২য় তলার চয়েজ কালেকশনের দোকানী  এস এম আক্তারুজ্জামান নিশাত  বলেন, বৈশাখ উপলক্ষ্যে নতুন নতুন পাঞ্জাবী এনেছি। ক্রেতার সমাগম অনেক বেশি। শেষ সময়ে বেচাকেনাও ভাল। এম রহমান নামের এক ক্রেতা জানান, ছোট ভাইকে বৈশাখের পোশাক কিনে দিতে বাজারে আসা। কিন্তু মার্কেটে এসে দেখছি পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। এদিকে কাপড়ের মার্কেটের ন্যায় মাটির তৈজসপত্র ও ইলিশের বাজারও ক্রেতা সরগরম। মাটির থালা-বাসন, জগ, কাপ-পিরিচ, শোপিস, ফুলদানি, ল্যাম্পশেড, মোমদানি ও বিভিন্ন তৈজসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকে। দোকানীরা বলেন, মাটির হাঁড়ি, থালা-বাসন থেকে শুরু করে ফুলদানি পর্যন্ত নানা ধরনের ডিজাইনের পণ্য দিয়ে বৈশাখে অনেকে ঘর সাজান। এসব পণ্যের দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। ভালো মাটির থালাগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, মাটির গ্লাস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বিভিন্ন রকমের বাটি পেয়ালা ৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। রূপালি ইলিশের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিক্রেতারা বলছেন, এখন ইলিশের মৌসুম না হওয়ায় সব ধরনের ইলিশের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছর  বাংলা নববর্ষের আগে অতি মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি ৫শ গ্রাম ওজনের একেকটি ইলিশের দাম প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। ক্রেতারা জানান, এক কেজি বা এককেজি ৩শ গ্রাম সাইজের ইলিশের কেজি ২২শ থেকে ৩ হাজার  ৫শ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। যেগুলো এক সপ্তাহ আগে দেড় হাজার থেকে দুইহাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কেসিসি রূপসা পাইকারী মৎস্য আড়তে মুজাহিদ ফিসের আড়ৎদার আবু মুসা বলেন, হঠ্যাৎ করে শেষ মুহুর্তে এসে ইলিশের দাম দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এদিকে বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন খুলনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে  এবারও পালন করা হবে হালখাতা উৎসব। এ উৎসবকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুুতি নিচ্ছেন খুলনার ব্যবসায়ীরা। এবার প্রায় ছোটবড় প্রায় ৬শতাধিক প্রতিষ্ঠানে হালখাতা উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বৈশাখের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন রঙের কাগজের তৈরি ঝালর, কুলা, ঢোল ইত্যাদি জিনিসপত্রে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে ৷  খুলনা জেলা জুয়েলারী মালিক সমিতির সভাপতি নিতাই চন্দ্র ভৌমিক বলেন, বড়বাজারসহ নগরীতে ১২০-১৩০টিসহ জেলায় ৫শতাধিক ছোট-বড় জুয়েলারী দোকান হালখাতা উৎসবের আয়োজন করে থাকে। যারা এবারও প্রস্তুুতি নিয়েছে। তিনি জানান, হালখাতা মূলত খুলনার বড় বাজার কেন্দ্রিক রয়েছে। এখনও এখানকার দোকানগুলো হালখাতা উৎসবের আয়োজন করে। খুলনা ধান চাল বণিক সমিতির সভাপতি মনির আহমেদ বলেন, বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন বাংলা বছরের হালখাতার জৌলুসে ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীর সংখ্যাও কমেছে। তারপরও খুলনার ২৫-৩০ জনধান চাল ব্যবসায়ী এবারও হালখাতার আয়োজন করেছেন। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সাড়ম্বরে চৈত্র-সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ-১৪২৬ উদযাপনে গৃহীত দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ৩০ চৈত্র-১৩ এপ্রিল মেলা (বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত) ঘুড়ি ও আল্পনা উৎসব, পুতুল নাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান)। পহেলা বৈশাখ/১৪ এপ্রিল বর্ষ আবাহন সকাল ৬:৪৫ মিনিট, মেলা (সকাল ৬:৪৫ মিনিট থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত), সকাল ৭:৪৫ টায় শোভাযাত্রা (মেলা প্রাঙ্গন থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক এরপর শিববাড়ি মোড় থেকে রয়েলচত্বর), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (প্রথম পর্ব) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (দ্বিতীয় পর্ব) বেলা ২ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি মহানগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কে তিন দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখ থেকে এ মেলা শুরু হবে।

??-??-????

13-04-2019

 

পড়া হয়েছে 32 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com