মঙ্গলবার, 13 নভেম্বর 2018

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সংস্থানের আশ্বাস বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের

Written by  রবিবার, 14 অক্টোবার 2018 01:48
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

একুশ রিপোর্ট : ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের ওয়েস্টিন হোটেলে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের সম্মেলনের চতুর্থ দিন গতকাল শনিবার বিশ্ব ব্যাংক প্রধান জিম ইয়ং কিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখায় বিশ্ব ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের ভরণ-পোষণের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হবে, তার সংস্থানের আশ্বাস বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। মুহিত বলেন, বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রোহিঙ্গা নিয়েই সব আলোচনা হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, অসহায় এই মানুষগুলোর সহায়তার জন্য যে খরচ হবে, তার ব্যবস্থা বিশ্ব ব্যাংক করবে। আমাদের সরকারের কোনো অর্থ খরচের প্রয়োজন পড়বে না। সকালে বিশ্ব ব্যাংক প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান মুহিতের দিনের কার্যক্রম। বৈঠকের শুরুতেই মুহিত বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে ঋণ-সহায়তা দিয়ে অবদান রাখার জন্য বিশ্ব ব্যাংক প্রধানকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় মুহিত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় শুরু থেকেই এগিয়ে আসার জন্য জিম ইয়ং কিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এই অসহায় মানুষগুলোর পুনর্বাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর বিশ্ব ব্যাংক প্রধান এবং বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। অন্য একটি বৈঠকে চলে যান বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীও। তিনি বলেছেন, বৈঠকের বিষয় পরে তিনি সাংবাদিকদের জানাবেন। পরে তিনি জানান, অর্থায়নের জন্য সুইডেন, জার্মানি, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিশ্ব ব্যাংকের আলোচনা হয়েছে। মুহিত বলেন, কানাডা ইতোমধ্যে কিছু অর্থ দিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছে। তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে অগ্রগতি নেই। এই শরণার্থীরা জনবহুল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা হিসাব করে দেখেছি, আগামি দুই বছরে রোহিঙ্গাদের জন্য দুই বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। কোনো ঋণ নয়, অনুদানের ব্যবস্থা করবে বিশ্ব ব্যাংক। এক বিলিয়ন ডলার করে দুই বছরে দুই বিলিয়ন ডলারের এই অর্থের বেশির ভাগ দেবে বিশ্ব ব্যাংক। বাকি অর্থ অন্যান্য দাতা দেশ এবং সংস্থার কাছ থেকে যোগাড় করে দেবে। অর্থমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আগামি কয়েক দিনের মধ্যে আরও ২০ কোটি ডলারের চুক্তি হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির সঙ্গে প্রথম পর্যায়ে ১০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। আরও ১০ কোটি ডলারের চুক্তি হবে শিগগিরই। অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থার সঙ্গেও এ বিষয়ে দ্রুত চুক্তি হবে বলে জানান মুহিত। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, হাঁ, বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। দারিদ্র্য দূর করতে ভালো করছি; যেটা তিনি নিজে বাংলাদেশে গিয়ে দেখে এসেছেন। বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের সরকারের সম্পর্ক এখন খুবই ভালো। পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন নিয়ে যেটা হয়েছিল, সেটা আমরা দুপক্ষই ভুলে গেছি। এখন বিশ্ব ব্যাংক আমাদের যে টাকা দিতে চেয়েছিল, তার থেকেও বেশি টাকা দিচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখায় বৈঠকে বিশ্ব ব্যাংক প্রধানকে ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। মুহিত এর আগে বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে তিন বছরে (২০১৭-১৮ থেকে ২০১৯-২০) ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। আমরা দুই বছরেই সেই টাকা শেষ করে ফেলেছি। অর্থাৎ দুই বছরেই তিন বছরের টাকা খরচ করেছি। এখন আমরা তাদের কাছ থেকে বাকি এক বছরের জন্য আরও ৪ দশমিক ৫ বিয়িন ডলার চেয়েছি। তারা আমাদের বাড়তি সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে। সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার পাওয়া না গেলেও ২ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। বিশ্ব ব্যাংক আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোকে সহায়তার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেক অর্থ অব্যবহৃত রয়েছে জানিয়ে সেখান থেকে ২ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিলেন মুহিত। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম উপস্থিত ছিলন। বিশ্ব ব্যাংক-আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ এর সদস্য ১৮৯ দেশের প্রায় ১৫ হাজার প্রতিনিধি গেছেন বালিতে, ১৫ অক্টোবর সোমবার শেষ হবে এই সম্মেলন। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম ভাগে বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফের এই সভা হয়। পর পর দুটি বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থা দুটির সদর দপ্তরে হওয়ার পর তৃতীয় সভাটি হয় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সদস্যভুক্ত অন্য কোনো দেশে।

পড়া হয়েছে 2 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com