বুধবার, 27 মার্চ 2019

দীর্ঘ ৬৮ বছর পর আগামী ২০ জানুয়ারী থেকে মোংলাতেই কাস্টমের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু

Written by  মঙ্গলবার, 08 জানুয়ারী 2019 01:54
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

এনামুল হক ঃ আমদানী-রপ্তানীকারসহ সংশ্লিষ্ট বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবীর প্রেক্ষিতে কয়েক বছর আগেই মোংলা কাস্টম হাউস খুলনা থেকে মোংলা বন্দর এলাকায় পূর্ণাঙ্গ স্থানান্তরের সরকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৭ সালের ৫ আগষ্ট মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভায় নৌ পরিবহণ মন্ত্রীর নির্দেশনাও আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এর আগেও ২০১১ সালে নৌ মন্ত্রী খুলনার খালিশপুর থেকে মোংলা কাস্টম হাউস মোংলা বন্দরে স্থানান্তরের নির্দেশনা দিলেও সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে এ মাসেই মোংলা কাস্টম হাউস মোংলাতে পূর্ণাঙ্গভাবে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোংলা কাস্টম হাউস’র কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, আগামী ২০ জানুয়ারী থেকে মোংলা বন্দরে কাস্টমের নতুন ইউনিট থেকে চালু করা হবে। খুলনাস্থ মোংলা কাস্টম হাউসের রপ্তানী শুল্কায়ন ও আমদানী শুল্কায়ন গ্রুপ-২ এবং ৪ এর শুল্কায়নসহ সকল কার্যক্রম চালু করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। কাস্টম কর্তৃপক্ষ ও বন্দর সূত্র জানায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর হিসেবে মোংলা বন্দরে কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকেই মোংলা কাস্টম হাউস খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের অনেক সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি নানাবিধ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবসায়ীরা আমদানী-রপ্তানীর স্বার্থে মোংলা কাস্টম হাউস মোংলা বন্দরে রাখার দাবী জানিয়ে আসছিলেন। মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু এন্ড সন্স’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব এইচ,এম দুলাল ও মেসার্স মায়া এন্টারপাইজ’র পরিচালক আহসান হাবিব হাসান বলেন, মোংলা বন্দর থেকে সড়ক পথে খুলনার খালিশপুর পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। মোংলা কাস্টম হাউস খুলনাতে হওয়ায় একজন ব্যবসায়ীকে শুল্কায়নসহ পণ্য খালাসের কাজ কর্মে দুই থেকে তিন দফায় খুলনা-মোংলা যাতায়াত করতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ব্যবসায়ীদের এ ভোগান্তী দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে চলে আসলেও দাবী থাকা সত্বেও এখন পর্যন্ত মোংলা কাস্টমের কার্যক্রম মোংলা বন্দরে স্থানান্তর হয়নি। ফলে নিরুপায় হয়ে ভোগান্তীর মধ্যদিয়েই ব্যবসায়ীদের এ বন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারীরা আরো বলেন, মোংলা বন্দর থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও যথাস্থানে কাস্টম হাউসের মুল অফিস না থাকায় ব্যবসায়ীদের ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বন্দরের কাজ শেষ করে কাস্টম ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে খুলনায় যেতে হয়। পরে ওই কাগজ নিয়ে আবার বন্দরে ফিরে এসে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিতে হয়। সিএন্ডএফ (ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং) এ্যাসোসিয়েশন’র সভাপতি মো: সুলতান আহম্মেদ বলেন, শুধু কার্যালয় মোংলায় আসলেই তো সমস্যার সমাধান হবে না। শুল্কায়ন কার্যক্রমের সাথে বেশ কিছু কার্যক্রম জড়িত। ব্যাংকিং সেবা, ক্লিয়ারিং এন্ড ফরোয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ), শিপিং এজেন্সির কার্যক্রমসহ বেশ কিছু কার্যালয়ও শুল্ক কার্যালয়ের সাথে সাথে মোংলায় স্থানান্তর করতে হবে। মোংলা কাস্টম হাউসের কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে মোংলা বন্দরের আমদানী ও রপ্তানী পণ্যের কাস্টম সংশ্লিষ্ট যাবতীয কার্যক্রম খুলনা ও মোংলা এ দুইস্থানে সম্পন্ন হয়ে আসছে। পণ্য পরীক্ষা, রামেজ (ঘোষণার অতিরিক্ত কোন পণ্য জাহাজে আছে কিনা তা পরীক্ষা), ইপিজেড পণ্য পরীক্ষা ও শুল্কায়ন, পণ্য খালাস, প্রিভেন্টিভসহ (নিবারকমূলক কার্যক্রম) আনুষঙ্গিক কার্যক্রম মোংলা কাস্টমস হাউসের বন্দর ইউনিট অর্থাৎ মোংলা বন্দরে সম্পন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে সকল প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আইজিএম (জাহাজে আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণা) দাখিল, আমদানী ও রপ্তানীকৃত পণ্যের শুল্কায়ন, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও রাসায়নিক পরীক্ষা সংশিষ্ট কার্যক্রম খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত মূল কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়ে আসছে। তবে মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারী থেকে মোংলা ইউনিট থেকে সকল কর্যক্রম পরিচালিত হবে। এজন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ,কে,এম ফারুক হাসান বলেন, আমরা চাই যে কোন মূল্যেই মোংলা বন্দরের সাথেই কাস্টম কার্যালয় স্থানান্তরিত হোক। আপাতত সমস্যার সমাধানের জন্যে আমাদের ট্রাফিক বিভাগের কিছু কক্ষ তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তÍ তাতে তাদের পুরো কার্যক্রম সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সেটি আমাদের বন্দরের জন্যেই মঙ্গল হবে।

??-??-????

08-01-2019

 

পড়া হয়েছে 4 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com