শনিবার, 16 ফেব্রুয়ারী 2019

মোংলা বন্দরে ৫০ শতাংশ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি; বন্দর উন্নয়নে ১০ টি প্রকল্প অনুমোদন

Written by  রবিবার, 20 জানুয়ারী 2019 00:43
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

মোংলা প্রতিনিধি ঃ মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এক বছরের ব্যাবধানে এ রাজস্ব আয় বেড়েছে ৫০ শতাংশ। গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ছিল ১৫ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে যা ৫০ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে বন্দরে বিদেশি জাহাজ আগমন ও কার্গো হ্যান্ডলিং (পণ্যের ওঠানামা)। এক বছরের ব্যাবধানে কন্টেইনার আগমনের সংখ্যা আড়াই গুন বেড়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান এসব তথ্য জানিয়ে আরও বলেন,  ২০১২-১৩ অর্থ বছরে বন্দরে বিদেশি জাহাজ এসেছিল ২৮২ টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ৬২৩ টিতে। একই সঙ্গে বন্দরে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায় ২২৬ কোটি টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আসে ৭৮৪ টি জাহাজ। এসময় কার্গো হ্যান্ডলিং (পণ্যের ওঠানামা) হয় ৯৭ দশমিক ১৬ লক্ষ মেঃ টন। রাজস্ব আদায় হয় ২৭৬ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা। এক সময়কার স্থবির মোংলা বন্দরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব ব্যয় বাদে নিট মুনাফা ছিল সাড়ে ৭১ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে নিট মুনাফা হয় ১০৯ কোটি টাকা। এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, আমদানি-রফতানিতে আশার সঞ্চার করেছে মোংলা বন্দর। তিনি বলেন, চট্রগ্রাম বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দরে কন্টেইনার আনার খরচ বেশি। এছাড়া নাব্য সংকটের কারনে জাহাজ ভিড়তে পারেনা। এ সমস্যা সমাধানে প্রকল্প চলমান রয়েছে। জটিলতার অবসান হলে এ বন্দরে আমদানি-রফতানি আরও বাড়বে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, মোংলা বন্দর উন্নয়নে ১০ টি প্রকল্প অনুমোদন হয়ে ৭ টি চলমান রয়েছে। ভারত ও চীনের অর্থায়নে একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। যা বাস্তবায়ন শেষ হলে বন্দরের গতিশীলতা পাল্টে যাবে। বন্দরের উন্নয়নে সরকার সার্বিক বিষয় নিয়মিত মনিটরিং করছেন বলেও জানান তিনি। বন্দরের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকে বন্দরটি ধীরে ধীরে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। বর্তমানে এ বন্দরে ৬ টি নিজস্ব জেটি, ব্যক্তি মালিকানাধীন ৭ টি জেটি এবং ২২ টি অ্যাঙ্কোরেজের মাধ্যমে ৩৫ টি জাহাজ একসঙ্গে হ্যান্ডলিং করা সম্ভব। ৪ টি ট্রানজিট শেড, ২ টি ওয়ার হাউজ, ৪ টি কন্টেইনার ইয়ার্ড, ২ টি  পার্কিং ইয়ার্ডের মাধ্যমে মোংলা বন্দর বার্ষিক ১’শ লাখ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৭০ হাজার টিইউজ কন্টেইনার এবং ২০ হাজারেরও বেশি গাড়ি হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে। মোংলা কাস্টম ক্লিয়ারিং এ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ সুলতান হোসেন খান বলেন, পারস্পারিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে বন্দরের সংকটের সমাধান করা গেলে মোংলা বন্দরের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাবে। সেই সঙ্গে বন্দরে আমদানি রফতানি বাড়বে ও অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ষ্টিভিডরস “রহমান এন্টারপ্রাইজে”র সত্বাধিকারী মশউর রহমান বলেন, মোংলা বন্দর ব্যবহারকারীদের কাজের পরিধি বেড়েছে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা হয়েছে। শ্রমিকরা এখন কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠছে। মোংলা বন্দরে যে পরিমান জাহাজ আসছে তা অন্য বছরের তুলনায় রেকর্ড গড়ে তুলছে। মোংলা বন্দর সুত্রে জানায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরের যাত্রা হয়। বন্দরটি বঙ্গোপসাগর থেকে ১৩১ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত। প্রথমে এই বন্দর গড়ে ওঠে চালনা থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে। ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর বন্দরটি বিদেশি একটি জাহাজ নোঙ্গরের মাধমে প্রথম এর নামকরন করা হয় চালনা বন্দর। কিন্তু সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙ্গরের ক্ষেত্রে অধিকতর সুবিধাজনক হওয়ায় ১৯৫৪ সালে বন্দরটি মোংলায় স্থানান্তর করা হয়। সুত্রটি আরও জানায়, এ বন্দর দিয়ে রফতানিকৃত পণ্য হচ্ছে-পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চিংড়ি, ক্লে টাইলস, চামড়া ও অন্যান্য সাধারণ পণ্য। বর্তমানে আমদানিকৃত পণ্য খাদ্যশস্য, সার, ক্লিংকার, মেশিনারি, গাড়ি, এলপি গ্যাস, কয়লা, লাইম স্টোন, পাম অয়েল, কাঠের লগ, পাথর ও অন্যান্য সাধারণ পণ্য।  

২০-০১-২০১৮

20-01-2019

 

পড়া হয়েছে 11 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com