সোমবার, 25 মার্চ 2019

ঋণ খেলাপি বন্ধে প্রয়োজনে ব্যাংকের পর্ষদে পরিবর্তন: অর্থমন্ত্রী

Written by  বৃহস্পতিবার, 14 মার্চ 2019 00:58
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

ঢাকা অফিস : খেলাপি ঋণ যাতে কোনোভাবেই আর বাড়তে না পারে সে বিষয়ে ব্যাংকারদের সতর্ক করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রয়োজনে পর্ষদে পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করবেন তিনি। যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের অপরাধে সহযোগিতা দেবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ার করেছেন। গতকাল বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে মুস্তফা কামাল বলেন, সবাইকে তিনি ‘সঠিক পথে’ নিয়ে আসবেন। কোনো ক্ষেত্রেই যেন নন পারফরমিং লোন না বাড়ে। যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না, এটা খেলার জায়গা না। না বুঝলে হবে না পরিচালক নিয়োগে অনেক সুপারিশ সামলাতে হয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। খেলাপি হওয়া ঋণের পরিমাণ কম দেখাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) নীতিমালা শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপী ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত গভর্নর ফজলে কবির বলেন, যদিও এটি জনতা ব্যাংকের একার বিষয় না, পুরো ব্যাংকিং খাতে এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এ টাকা যেন আর বৃদ্ধি না হয়। ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শীর্ষ খেলাপীদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে, খেলাপী ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণ করতে হবে। খেলাপী ঋণের মামলা না করে আদায়ের চেষ্টা করবেন। মামলা করবেন অবশ্যই, তবে কুইক ডিসপোজেবলের জন্য নয়। ঋণ দেওয়ার সময়ই সতর্ক হয়ে দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেশের অর্থনীতির ‘সবচেয়ে দুর্বল জায়গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন অসাধু কর্মকর্তা আপনাদের সাফল্য ম্লান করে দেবে। ১০টি ভাল কাজ করেন, একটি খারাপ কাজ বলবে- ‘সব নিয়ে চলে গেছে’। যিনি অন্যায় করেন আর অন্যায়কে সহায়তা করেন- অপরাধ তো একই রকম। মন্ত্রী জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি না করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ করাতে চান তিনি। হাত তুলে শপথ করতে হবে যে আপনারা দুর্নীতিকে ‘নো’ বলবেন, নিজে দুর্নীতি করবেন না, অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে সহয়তা করবেন না। অসৎ কাজ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যারা অসাধু ব্যবসায়ী, তাদের সাথে কিন্তু আমরাও থাকি। আমরা যারা আছি তাদেরকেও কিন্তু কোনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা তাদের পশ্রয় দিয়েছে তাদের বের করা খুব কঠিন না। তবে অপরাধ স্বীকার করলে ক্ষমা করে দেওয়া হবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবাইকে সঠিক করে ঠিক পথে নিয়ে আসব। কেউ অপরাধ করে আসলে ভিন্ন পথে যদি টাকা নিয়ে থাকে- তা যদি ফেরত দিতে পারে, গোপনে আমাকে বললেও মাফ করে দেব। লিজ ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই একটি বাদ দিলে কোনো প্রতিষ্ঠানেই ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে স্পেশাল অডিট করব। তবে কাউকে ছোট করার জন্য নয়, কাউকে জেলে পাঠানোর জন্য নয়। প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপ নেব না। আর্থিক খাতে অপচয় কমাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে আসার কথাও বলেন মুস্তফা কামাল। ব্লকচেইন টেকনোলজি নিয়ে আসতে হবে। একটি কমপ্রিহেনসিভ টেকনোলজিতে আনতে হবে, যাতে সবাই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের টেকনোলজি ব্যবহারে অপচয় বাড়ে। যারা ব্যবসার পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ‘খারাপ অবস্থানে’ চলে গেছেন, তাদের সহায়তা করারও প্রতিশ্রুতি দেন অর্থমন্ত্রী। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করা অনেক কঠিন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য আসি নাই। যারা ভাল ব্যবসায়ী তাদের অনেক সহায়তা করব। আমরা যা করব, সততার মধ্যে করব। এমনভাবে পলিসি করব যাতে সবাই উপকৃত হয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ধনী-গরিবের ব্যবধান যেন কমিয়ে আনতে কাজ করার কথা জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, একদিনে এসব সম্ভব নয়, তবে আমি পারব। দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, হাতে আগে ব্যালেন্স শিট পেয়ে নেই, কোন ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠাবো না, অপরাধ করে যদি স্বীকার করে তাহলে জেলে পাঠাবো না। যারা ব্যবসার পরিবেশ পরিস্থির কারণে খারাপ অবস্থানে চলে গেছে তাদের সহায়তা করবো, সততার সঙ্গে আছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য আসি নাই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করা অনেক কঠিন। যারা ভালো ব্যবসায়ী তাদের সব ধরনের সহায়তা করবো। আমরা যা করবো সততার মধ্যে করবো, এমনভাবে পলিসি করবো যাতে সবাই উপকৃত হয়, আমরা সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নেবো। জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. ফজলে কবির, অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম প্রমুখ।

??-??-????

14-03-2019

 

পড়া হয়েছে 0 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com