সোমবার, 25 মার্চ 2019

গোপালগঞ্জের স্বর্ণকলি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Written by  শুক্রবার, 08 মার্চ 2019 01:08
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ গোপালগঞ্জ জেলা শহরের স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহে আলমের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।  মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং  গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করা লিখিত পৃথক অভিযোগ মোতাবেক জানা গেছে প্রধান শিক্ষক মাহে আলম ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জেলা শহরের স্বর্নকলি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির আশ্রয় নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়াও যথাযথ ছিলনা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দূর্ণীতি ও অনিয়মের সব ঘটনা তুলে ধরে একটি লিফলেট সাংবাদিকদের কাছেসহ সকল মহলে বিতরন করা হচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নগদ ত্রিশ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও টয়লেট নির্মান বাবদ অনিয়ম করে টাকা হাতিয়েছেন। ঐ প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ৯০ টি গাছ কেটে নিজে ব্যবহার করেছেন। বিগত চার বছর ধরে শিক্ষার্থী প্রতি দুইশত টাকা করে নিয়েছেন ম্যাগাজিন প্রকাশ করার কথা বলে। এ খাতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য নোট বই বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। নোটবুকসহ গাইড এবং  ইংরেজি ও বাংলা গ্রামার বই বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি ৪ হাজার টাকা ব্যয় করতে বাধ্য করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সকল উপকরন  প্রধান শিক্ষক নিজস্ব দোকান এবং প্রশ্নসহ অন্যান্য প্রয়োজণীয় প্রকাশনা তার নিজস্ব প্রেস থেকে করেন । এসব ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে চলার বিধান থাকলেও ঐ প্রধান শিক্ষক তা মানেন না।  বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোন ম্যানেজিং কমিটি আছে বলে মনে হয় না। কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন একটি অ্যাডহক কমিটি সেখানে কাজ করে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষকের সমর্থক সংখ্যা কম হওয়ায় তিনি বর্তমানে দূর্বল হয়ে পড়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষকরা বলেছেন। বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক মাহে আলম নিজ স্ত্রীকেও সহকারি শিক্ষক হিসাবে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ডের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭০০/৮০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে । এ বাবদ মোটা টাকা তিনি হাতিয়েছেন। গত চার বছরে ৪০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে বলে তিনি দাবী করলেও তা মোটেও হয় নাই। বেশীরভাগ টাকা তিনি পকেটস্থ করেছেন।  প্রধান শিক্ষক মাহে আলমের দূর্ণীতি ও অনিয়ম সীমাহীন। তিনি জনৈক প্রভাবশালী রাজণীতিবিদের আত্মীয় বিধায় ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিজের ক্লাস নেয়ার বিধান থাকলেও তিনি তা নেন না। শিক্ষক সমিতির প্রভাবশালী নেতা বলে যা খুশি তাই করেন। শিক্ষকদের দাবী আদায়ের কথা বলে আন্দোলন পরিচালনা করে লাখ লাখ টাকা তুলেছেন। বিতর্কিত ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায়ই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন পরিচালনা করায় বর্তমানে সেখানকার শিক্ষার পরিবেশ দারুনভাবে নি¤œমুখী। এ অবস্থা থেকে শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরিত্রান চায় বলে জানা গেছে। প্রধান শিক্ষক মাহে আলমের দূর্ণীতি ও অনিয়মের সকল ঘটনা দুর্ণীতি দমন কমিশনকেও অবহিত করা হয়েছে বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। দূর্ণীতি ও অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা  নিয়ে আলাপ করা হলে প্রধান শিক্ষক মাহে আলম বলেন একটি রাজনৈতিক মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। তিনি কোন উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন নাই বলেও জানিয়েছেন।

০৮-০৩-২০১৯

08-03-2019

 

পড়া হয়েছে 0 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com