বুধবার, 21 নভেম্বর 2018

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ল

Written by  শুক্রবার, 12 অক্টোবার 2018 02:48
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

ঢাকা অফিস : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আপিলের শুনানি আগামি রোববারের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরশেদ। গত ১২ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময়ে জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু অন্যান্য মামলায় জামিন না পাওয়ায় এখনো কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার প্যানেল আইনজীবী এ কে এম এহসানুর রহমান বলেন, এ মামলায় গত ১২ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসনকে চার মাসের জামিন দেওয়ার পর আজ পর্যন্ত আট দফা জামিনের মেয়াদ বাড়ালো আদালত। খালেদা জিয়া বাদে এ মামলায় দ-িত বাকি দুই আসামি হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। পলাতক তিনজন হলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদ- দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদ- দেয় আদালত। রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফায়েড কপি) হাতে পান খালেদার আইনজীবীরা। এরপর হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি তারা এ আবেদন করেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তার অর্থদ- স্থগিত করে নথি তলব করে হাই কোর্ট। এরপর ৭ মার্চ অপর আসামি কাজী সালিমুল হক কামালের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়। পরে ২৮ মার্চ খালেদার সাজা বাড়াতে দুদকের করা আবেদনে রুল জারি করে হাই কোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্র ও খালেদা জিয়ার কাছে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। তবে আদালত বলে দেয়, রুলের ওপর শুনানি হবে খালেদা জিয়ার আপিলের সঙ্গে। আদালত আদেশে বলে, দুদক আইনে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের রিভিশন বা আপিল দুর্নীতি দমন কমিশন করতে পারে কি না- সে বিষয়টি আলোচনা ও ব্যাখ্যার দাবি রাখে। পরে গত ১০ মে মামলার আরেক আসামি শরফুদ্দিনের আপিলও শুনানির জন্য গ্রহণ করে আদালত। গত ১২ জুলাই থেকে এ মামলার আপিল ও রুল শুনানি শুরু হয়। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এ মামলার আপিল নিষ্পত্তি করতে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান গতকাল বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে এ মামলার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা-সংক্রান্ত আদেশের জন্য ১ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর এ দিন ধার্য করেন। মামলার বাদী বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে মানহানির দুই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিচারক নথি পর্যালোচনা করে আদেশ পরে দেবেন বলে নতুন তারিখ ঠিক করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির মামলা: ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী মামলাটি করেছিলেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা চান নাই। তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব। জেনারেল জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ায় এ দেশের জনগণ যুদ্ধে নেমে ছিল। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে চলছে দুর্নীতি ও লুটপাট। দলীয় লোকদের জঙ্গি বানিয়ে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করছে, ধর্মলঘুদের বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট ও হত্যা করছে। পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলসহ ভালো ভালো লোককে গ্রেফতার করে গুম ও হত্যা করছে। বিএনপির চেয়ারপারসন আরো বলেন, উন্নয়নের নামে পদ্মা সেতু ও ফ্লাইওভারের কাজ বিলম্ব করে ব্যয়বহুল অর্থ দেখিয়ে লুটপাট করছে। যার বিরুদ্ধে আমি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হুকুম দিচ্ছি, তোমরা প্রতিটি গ্রামেগঞ্জে নেমে এই সরকারের বিরুদ্ধে সব জনগণ ও যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের পক্ষে ঝাঁপিয়ে নামার ব্যবস্থা করো। খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের মানহানি হয়েছে দাবি করে মামলাটি করেন এ বি সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা: ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী ঢাকা মহানগর হাকিম মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে নালিশি মামলাটি করেন। পরে বিচারক মামলাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শাহবাগ থানার একজন পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার আরজি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে হিন্দু সম্প্রদায়ের শুভ বিজয়ার অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রতি কটূক্তি করেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। বিএনপির চেয়ারপারসন আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সব ধরনের মানুষের ওপর আঘাত করে। আর লোক দেখানো ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়। ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এই জবরদখলকারী সরকারের হাতে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়। এর আগে গত ৩০ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুই মামলায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। এরপর মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। আদালত নথি পর্যালোচনা করে আদেশ দেওয়ার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

পড়া হয়েছে 11 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

নামাজের সময়সূচি

সূর্যোদয়ঃ ভোর  ৬ঃ০১
ওয়াক্তসময় শুরুসময় শেষ
ফজর ভোর ৪ঃ৩৮ সকাল ৫ঃ৫৮
যোহর বেলা ১১ঃ৪৪ বেলা ৩:৪৮
আসর বিকেল ৩ঃ৫০ সন্ধ্যা ৫ঃ৩০
মাগরিব সন্ধ্যা ৫ঃ৩০ রাত ৬ঃ৩০
এশা রাত ৬ঃ৪৪ ভোর ৪ঃ৩০
সূর্যাস্তঃ সন্ধ্যা ৫ঃ৩০

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com