সোমবার, 25 মার্চ 2019

তালায় কপোতাক্ষ নদের উপর ক্রসড্যাম স্থাপন ও পাখিমারা টিআরএম বিল ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

Written by  মঙ্গলবার, 12 মার্চ 2019 00:13
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

তালা প্রতিনিধি ঃ তালায় কপোতাক্ষ নদের উপর ক্রসড্যাম স্থাপন ও পাখিমারা টিআরএম বিল ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উত্তরণ ও তালা উপজেলা পানি কমিটি আয়োজিত রবিবার ১০ মার্চ বেলা ১১ টায়  অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তালা উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মোঃ ময়নুল ইসলাম।  উত্তরণের প্রকল্প  পরিচালক জাহিন শামস সাক্ষরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে পানি কমিটির সভাপতি মোঃ ময়নুল ইসলাম বলেন, কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানকল্পে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিগত ২০১১ সালে ‘কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পে (১ম পর্যায়)’ মূলতঃ দুটি কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। যারমধ্যে পাখিমারা বিলে টিআরএম স্থাপন এবং অন্যটি ৯০ কিমি. নদী খনন করা হয়। পলি ব্যবস্থাপনার আওতায় খননকৃত নদী রক্ষার কৌশল হিসেবে টিআরএম চলাকালে মূল নদের উপর ক্রসড্যাম দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে জোয়ারবাহিত পলি উপরাংশে না ঢুকিয়ে টিআরএম বিলে প্রবেশ করানো হয় এবং বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পুনরায় ক্রসড্যাম তুলে দেয়া হয়। এখানে প্রকাশ জরুরী যে, এই প্রকল্প গ্রহণের পরে ২০১৬-২০১৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত কপোতাক্ষ অববাহিকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পায়। আরও উল্লেখ থাকে যে, নদী রক্ষায় পলি ব্যবস্থাপনার আওতায় ক্রসড্যাম স্থাপন একটি নিয়মিত কার্যক্রম। কিন্তু এ বছর পলি মৌসুমের অনেক আগেই নদীতে পলির আগমন ঘটেছে এবং প্রচুর পরিমাণে পলি টিআরএম এর উজান অংশে প্রবেশ করে নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমের শুরুর এই সময়ে নদীতে ক্রসড্যাম না দিলে নদীকে রক্ষা করা যাবে না।  উত্তরণ এর অনুসন্ধানের আলোকে, পলিযুক্ত জোয়ার বাহিত প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ৬০ গ্রাম পলি নদীতে অনুপ্রবেশ করছে। ভয়াবহ এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতি দ্রুত ক্রসড্যাম সম্পন্ন করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে উত্তরণ ও পানি কমিটি কর্তৃক ২ মাস পূর্বে গত ৫ জানুয়ারী’২০১৯ তারিখ সংবাদ সম্মেলন এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছিল। তখন পাউবো’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল এ কাজটি খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় যে, এখনও পর্যন্ত তা সম্পন্ন করা হয়নি। ইতোমধ্যে জোয়ারবাহিত আগত প্রচুর পলি নদী বক্ষে পতিত হয়ে নদীর তলদেশ অনেকাংশ ভরাট করে ফেলেছে। অন্যদিকে পানিতে পলির আধিক্যতায় এলাকাবাসীর আশংকা যে, এভাবে পলির অবক্ষেপন ঘটলে নদী এ বছরই মারা যাবে। উল্লেখ থাকে যে, গত বছরও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল। জনগণের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কিছুটা হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে বাঁধ স্থাপন করতে পেরেছিল। নদী রক্ষায় যেহেতু এটা একটা নিয়মিত কার্যক্রম সেহেতু সময়মতো তার বাস্তবায়ন না ঘটলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রায় ২৬২ কোটি টাকার কপোতাক্ষ প্রকল্পের সুফল জনগণ বেশীদিন ভোগ করতে পারবে না বলে এলাকাবাসীর আশংকা। সেজন্য ক্রসড্যাম স্থাপন নিয়ে কোন রকম অবহেলা করা যাবে না। ফলে এ বিষয়টি যাতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রমের আওতায় রাখা যায় তার ব্যবস্থা গ্রহণ অতি জরুরী।  তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ২০২১ সাল পর্যন্ত টিআরএম চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সেজন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উত্তরণ ও পানি কমিটি যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনে জোরালোভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যে পাখিমারা টিআরএম বিলের বালিয়া কাটপয়েন্টে নদীর উজানমুখে ক্রসড্যাম স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করা, প্রকল্প সফলতার জন্য পাখিমারা টিআরএম বিলের সুষ্ঠু বিল ব্যবস্থাপনা দ্রুত কার্যকর করা, অতি দ্রুত কপোতাক্ষ নদের ২য় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করা এবং গুরুত্ব প্রদান করে ভবিষ্যতে নদী রক্ষার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতি বছর নদীতে ক্রসড্যাম স্থাপনের কাজ সমাপ্ত করা এবং যথাসময়ে তা অপসারণ করার দাবী জানান। এদিকে প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত টিআরএম প্রযুক্তিকে ব্যর্থ প্রমাণিত করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্রসড্যাম দেয়ায় বিলম্ব করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী মনে করছে। ক্রসড্যাম স্থাপনের ক্ষেত্রে ধীরগতি ও সময়ক্ষেপনে দ্রুত নদী ভরাট ও টিআরএম বিলে পলি ভরাট উভয় ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। যা বিভিন্নভাবে এলাকার জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

??-??-????

12-03-2019

 

পড়া হয়েছে 0 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com