মঙ্গলবার, 20 নভেম্বর 2018

কী পেলাম, না পেলাম -সেই চিন্তা না করে আগে দেশকে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Written by  রবিবার, 16 সেপ্টেম্বর 2018 02:23
ফিডব্যাক দিন
(0 votes)

ঢাকা অফিস : আগামী প্রজন্মের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইডিইবি) ২২তম জাতীয় সম্মেলনর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, কী পেলাম, না পেলাম- সেই চিন্তা না করে আগে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের আগামি দিনের প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায়; সেই লক্ষ্য নিয়েই। সেই ক্ষেত্রে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবার জন্য আমি সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি। গণভবনে গতকাল শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর থেকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে পর্যন্ত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অনেক বছর আমাদের নষ্ট হয়ে গেছে। ৭৫ থেকে ৯৬.. ২৫টা বছর হারিয়ে গেছে। এই ২৫টা বছর প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের কোনো উন্নতিই হয়নি। উন্নতি হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের ঘিরে কিছু মুষ্ঠিমেয় গোষ্ঠির। বৃহৎ জনগোষ্ঠি কিন্তু বঞ্চিত ছিল। এই বঞ্চিত মানুষকে বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেওয়াই কিন্তু আমাদের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তার ২৫ মিনিটের বক্তব্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল অ্যালবামে স্বাক্ষর করে ‘গ্লোবাল কম্পিটিটিভ টিভিইটি (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং) ফর চ্যালেঞ্জেস অব আইআর (ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলিউশন) ৪.০’ শীর্ষক এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান বজায় রাখার দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তায়। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা, মিল-কারখানা নির্মাণ ও স্থাপনের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীদের কাজের গুণগত মানের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কাজের গুণগত মান বজায় থাকে সেজন্য আপনারা দৃষ্টি দিয়ে থাকেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পরিকল্পনা নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিনিয়ত আমাদের যেমন ভূমিক্ষয় হয়.. নদী ভাঙনে নতুন নতুন চরও জাগে। কাজেই এদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের পরিকল্পনা নিতে হয়। গত সাড়ে ৯ বছরে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫০০ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইউনিভার্সিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ডাবল শিফট চালু করা হয়েছে। সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আসনসংখ্যা ২৫ হাজার থেকে ১ লাখে উন্নীত করতে প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একটি করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ, ওয়ার্কশপ-ল্যাব প্রতিষ্ঠা ও যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং শিক্ষক-কর্মচারির প্রায় ৭ হাজার পদ সৃষ্টির জন্য ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারটি সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ও ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক স্থাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ আমরা করবো। ইতোমধ্যে ১০০টির কাজ শুরু করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে সফল হয়েছি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে আমরা এসডিজির বিভিন্ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনেও আমরা সফল হব, ইনশাআল্লাহ। শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান বা বদ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করার কথাও বলেন তিনি। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক টেকসই, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন। ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ভোকেশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বিশ্বব্যবস্থায় টেকনোলজিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চাহিদাসম্পন্ন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে একমুখী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাধর্মী একটি প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের সমঝোতার আইডিইবি ও হিন্দুস্থান মেশিন টুলস ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে খুলনা ও যশোরে কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার (সিএফসি) ফর স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ নাম প্রফেশনাল ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে তখনই আইডিইবির উন্নয়নে অবদান রেখেছে। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা আইডিইবি ভবন নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেই। ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে আমরা আরও প্রায় ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। আর গ্রামে থেকেও যেন সবাই শহরের সুবিধা পেতে পারে সেলক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। উন্নয়নশীল দেশের যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা এগিয়ে নিতে সবাইকে আরো নিবেদিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সরকারপ্রধান বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল এবং কলেজ আমরা প্রতিষ্ঠা করব। ইতিমধ্যেই ১০০টা কাজ শুরু হয়ে গেছে। আমরা প্রতি উপজেলায় করে দেব। গ্রামের মানুষÑতারা নাগরিক সুবিধা পাবে, তারা সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং গ্রামগুলোকে শহর হিসেবে গড়ে তোলা, সকল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সেখানে যাতে হয়, আমরা সেইভাবে পরিকল্পনা নিচ্ছি এবং সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আজকে গত সাড়ে নয় বছর ধরে কাজ করে বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত দুই মেয়াদের সরকারের প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তব রূপ পেয়েছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আগামীতে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরে তিনি সরকারি চাকরিজীবীসহ সবাইকে কর্মক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ১২৩ ভাগ বেতন বাড়াতে পারে কি না, আমার জানা নাইÑকেউ পারে না। আমরা বেতন সেইভাবে বাড়িয়ে দিয়েছি। প্রত্যেকের কাজের সুযোগসুবিধা সৃষ্টি করে দিয়েছি। কাজেই কী পেলাম না পেলাম সেই চিন্তা না করে আগে দেশকে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের আগামি দিনের প্রজন্ম যেন সুন্দর জীবন পায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই, সেই ক্ষেত্রে সকলকে নিবেদিত প্রাণ করবার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। সাধারণত বর্ষাকালে বাংলাদেশে সব জিনিসের দাম বাড়ে। আল্লাহর রহমতে এবার আর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। আগস্ট মাসের যে মূল্যস্ফীতি তা মাত্র ৫ দশমিক ৪ ভাগে আমরা নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি কম, প্রবৃদ্ধি বেশিÑএই অর্থনীতির সুফল গ্রামবাংলার মানুষ পায়, সাধারণ মানুষ পায়। সেভাবেই আমরা দেশকে গড়ে তুলছি। প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ২০২১ সালে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আইডিইবির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদদক শামসুর রহমান। এর আগে বাংলাদেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বানানো রোবট ‘টিভিইটি’ প্রধানমন্ত্রীকে মঞ্চে স্বাগত জানায় এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়।

১৬-০৯-২০১৮

16-09-2018

 

পড়া হয়েছে 7 বার

আপনার মতামত জানান...

আপনার মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ

সোস্যাল নেটওয়ার্ক

খবরের ভিডিও

অনলাইন জরিপ

দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জঙ্গিবাদের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
  • Votes: (0%)
Total Votes:
First Vote:
Last Vote:

হাট-বাজার

আঠারো মাইল পশুর হাট - ডুমুরিয়া, খুলনা, বাংলাদেশ

বিস্তারিত দেখুন

পুরনো খবর

প্রধান সম্পাদক : আতিয়ার পারভেজ || সম্পাদক ও প্রকাশক : মনোয়ারা জাহান || ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: শাহীন ইসলাম সাঈদ।
বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২৫, স্যার ইকবাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, গোল্ডেন কিং ভবন, খুলনা।
সম্পাদক কর্তৃক দেশ বাংলা প্রিন্টার্স, ৫৮, সিমেট্রি রোড, খুলনা হতে মুদ্রিত ও ১০০, খানজাহান আলী রোড থেকে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ সম্পাদক : ০১৭৫৫-২২৪৪০০, বার্তা কক্ষ : ০১৭৮৭-০৫৫৫৫৫, বিজ্ঞাপন : ০১৭৫৫-১১১৮৮৮
ইমেইল : newsamarekush@gmail.com || ওয়েব: amarekush.com